Post-14=132>পুর ভরা কাঁচকলার টিকিয়া == >( SL No-132 to 143 )

Post-14=132>পুর ভরা কাঁচকলার টিকিয়া +=( SL No-132 to 143 )

132>পুর ভরা কাঁচকলার টিকিয়া
133>কাঁচকলার মসলা টিকিয়া
134>কাঁচা কাঠালের পোলাও।
135>ঘরে তৈরি করুন ঘি
136>লাচ্ছা পরোটা
137>সুজির  কচুরি।
138>রাইস চিকেন রোল।
139>ভেলপুরি নিউ  স্টাইলে।
140>ভেজিটেবল চিকেন সুপ
141>মাখন ও ঘি.++(ফুড প্রসেসর আর ব্লেন্ডার )
142>ম্যাঙ্গো পান্নাকোটা
143>কুলফির স্বাদে ম্যাঙ্গো লাচ্ছি
========================================================

132>পুর ভরা কাঁচকলার টিকিয়া.                        

উপকরণ :-
কাঁচকলার মিশ্রণ তৈরির জন্য:
 কাঁচকলা ২টি। 
আলু ২টি। 
পেঁয়াজকুচি আধা কাপ।
পেঁয়াজ-বেরেস্তা আধা কাপ (না ব্যবহার করলেও হবে)।
 আদাকুচি ১ চা-চামচ। 
কাঁচালঙ্কা-কুচি ২ চা-চামচ। 
রসুন পাউডার ১ চা-চামচ। 
গোলমরিচ-গুঁড়ো  আধা চা-চামচ। 
 জিরাগুঁড়ো  আধা চা-চামচ। 
চিনি ১/৩ চা-চামচ। 
গরম মসলা গুঁড়ো ১/৩ চা-চামচ।
জায়ফল ও জয়ত্রী গুঁড়ো  সামান্য। 
লেবুররস ১,২ চা-চামচ। 
লবণ স্বাদ মতো। 
ডিম ১টি।
ভাজার জন্য: ডিম ১টি। 
পাউরুটির গুঁড়ো ২ কাপ। 
কর্নফ্লাওয়ার ৩ টেবিল-চামচ +আধা কাপ। 
লবণ স্বাদ মতো।
লঙ্কা গুঁড়ো  আধা চা-চামচ। 
রসুন পাউডার ১ চা-চামচ।                               
তেল ভাজার জন্য ১,২ কাপ।


ডিম সামান্য জল  দিয়ে ফেটিয়ে রাখুন। আধা কাপ কর্নফ্লাওয়ার একটা  বাটিতে রাখুন। 

পাউরুটির গুঁড়ো , বাকি কর্নফ্লাওয়ার, লবণ, লঙ্কা গুঁড়া, রসুন পাউডার অন্য একটি 
বাটিতে একসঙ্গে মিশিয়ে রাখুন।
পুরের জন্য: 
 মাংস  কিংবা চিকেন কিমা দেড় কাপ। 
পেঁয়াজ ১ কাপ।
চারকোনা করে করে কাটা রসুনকুচি ২ টেবিল-চামচ।
আদাকুচি ১ টেবিল- চামচ।
গোলমরিচ-গুঁড়ো  আধা চা-চামচ।
ওয়েসটার সস ১ টেবিল-চামচ।
সিরকা ১ চা-চামচ।
কাঁচা-লঙ্কাকুচি স্বাদ মতো।
লবণ স্বাদ মতো।
কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল-চামচ (১/৩ কাপ জলে মিশিয়ে রাখুন)।

তেল ৩ টেবিল-চামচ।
 কড়াই য়ে তেল গরম করে পেঁয়াজকুচি ও রসুন দিয়ে হাল্কা করে ভেজে কিমা দিন। কিছুক্ষণ ভেজে আদাকুচি, সস, লবণ,সিরকা, গোলমরিচ-গুঁড়া দিয়ে সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। নামানোর
আগে কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে ভালো করে নেড়ে নামিয়ে নিন।

পদ্ধতি:
কাঁচকলার খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করে কেটে সামান্য হলুদগুঁড়ো  আর লবণ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে সিদ্ধ করে নিন। সঙ্গে আলু সিদ্ধ করে নিন।
কলা ও আলু ভালো করে চটকে কাঁচাকলার মিশ্রণের উপকরণগুলো দিয়ে মিশিয়ে নিন। ছোট ছোট ভাগ করুন। হাতে নিয়ে, গোল করে বাটির মতো তৈরি করে, ভিতরে কিমার পুর ভরে ভালো করে মুখ বন্ধ করে টিকিয়ার আকারে গড়ে নিন।

একটা একটা করে টিকিয়া প্রথমে কর্নফ্লাওয়ারে মাখিয়ে  নিন। তারপর  ফেটানো ডিমে ডুবিয়ে নিয়ে
পাউরুটির গুঁড়ায় গড়িয়ে নিন।রেফ্রিজারেটরে ৩০ মিনিট রেখে ডুবো তেলে ভেজে পরিবেশন করুন।
===========================================


133>কাঁচকলার মসলা টিকিয়া

উপকরণ :-                                                                                                                                                  
 কলার মিশ্রণ তৈরির জন্য: কাঁচকলা ২টি।
আলু ২টি।
পেঁয়াজকুচি আধা কাপ।                                    
পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ (না হলেও চলবে)।
আদাকুচি ১ চা-চামচ।
কাঁচালঙ্কা -কুচি ২ চা-চামচ।
রসুন বাটা  ১ চা-চামচ।
গোলমরিচের গুঁড়ো  আধা চা-চামচ।
জিরাগুঁড়ো আধা চা-চামচ।
চিনিগুঁড়ো  ১/৩ চা-চামচ।
গরম মসলাগুঁড়ো  ১/৩ চা-চামচ।
জায়ফল ও জয়ত্রী গুঁড়ো  সামান্য।
লেবুর রস ১,২ চা-চামচ।
লবণ স্বাদ মতো।
ডিম ১টি।
                                                                   

ভাজার জন্য:
 ডিম ১টি।
পাউরুটির গুঁড়ো ২কাপ।
কর্নফ্লাওয়ার ৩ টেবিল-চামচ এবং আধা কাপ।
লবণ স্বাদ মতো।
মরিচগুঁড়ো আধা চা-চামচ।
রসুন   কুঁচি  ১ চা চামচ।
তেল ভাজার জন্য।
ডিম সামান্য জল  দিয়ে ফেটিয়ে রাখুন।
কর্নফ্লাওয়ার একটা বাটিতে রাখুন।
পাউরুটির গুঁড়ো  ,কর্নফ্লাওয়ার,  নুন , লঙ্কা গুঁড়ো , রসুন বাটা (শুকনো ) অন্য একটি বাটিতে
একসঙ্গে মিশিয়ে রাখুন।

মসলা তৈরির জন্য:                        
রসুনকুচি ১/৩ কাপ।
কাঁচালঙ্কা  ৪,৫টি।
 জিরাগুঁড়ো আধা চা-চামচ।
গরম মসলা গুঁড়ো  ১/৪ চা- চামচ।
টমেটো পেস্ট ১/৩ কাপ।
ধনেপাতা-কুচি ১ কাপ। নুন  স্বাদ মতো।
উপরের সব উপকরণ ব্লেন্ডারে হালকা ভাবে ব্লেন্ড করে নিন।
বেশি মিহি করে ব্লেন্ড করবেননা ।

পদ্ধতি:                                              
কাঁচকলার খোসা ছাড়িয়ে টুকরা করে কেটে সামান্য হলুদগুঁড়া,নুন  মাখিয়ে কিছুক্ষন
রেখে ধুয়ে সিদ্ধ করে নিন। সঙ্গে আলুও সিদ্ধ করে নিন।
কলা ও আলু ভালো করে চটকে, কলার মিশ্রণ তৈরির উপকরণগুলো একসঙ্গেমিশিয়ে
টিকিয়ার আকারে গড়ে নিন।

এখন ১টি করে টিকিয়া কর্নফ্লাওয়ারে মাখিয়ে  ফেটানো ডিমে ডুবিয়ে পাউরুটির গুঁড়ো য় মাখিয়ে  নিন। রেফ্রিজারেটরে ৩০ মিনিট রেখে দিন।
ডুবো তেলে ভেজে নিন।                        
অন্য একটি প্যানে তেল গরম করে,পেঁয়াজকুচি বাদামি করে ভেজেনিন। এতে মসলা
পেস্ট দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। মসলা থেকে তেল উপরে উঠলে দেড় কাপ জল  দিন।
জল  ফুটে এলে ভাজা টিকিয়াগুলো ছেড়ে দিন। টিকিয়ার সঙ্গে মসলা মাখা মাখা হলে
নামিয়ে গরম ভাত কিংবা মিক্স  খিচুড়ির সঙ্গে পরিবেশন করুন ।
===============================
134>কাঁচা কাঠালের পোলাও।


উপকরণঃ                

- ৩/৪ কাপ কাঁচা কাঁঠাল টুকরো
- দেড় কাপ বাসমতি চাল, ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পরে জল   ঝরিয়ে নিতে হবে।
- ২ টেবিল চামচ তেল,
- ডিপ ফ্রাই করার জন্য তেল,
- ৩ টেবিল চামচ ঘি,
- অল্প একটু জয়ত্রী,
- ১টা তেজপাতা,
- ৪/৫টা লবঙ্গ,
- ১/২টা কালো এলাচ ( বড়ো এলাচ ),
- ৩/৪টা সবুজ এলাচ ( ছোট এলাচ ),
- ১ ইঞ্চি পরিমাণ দারুচিনি,
- ২/৩টা মাঝারি পিঁয়াজ কুচি করা,
- ১ টেবিল চামচ আদা-রসুন বাটা,
- ১ চা চামচ লঙ্কা  গুঁড়ো,
- নুন স্বাদমতো,
- ৬/৮টা কাজুবাদাম, অর্ধেক করে কেটে  নেওয়া,
- ১ টেবিল চামচ টাটকা ধনেপাতা কুচি,
- ১ ইঞ্চি পরিমাণ আদা লম্বা কুচি করা,
- ১ চা চামচ লেবুর রস,
- পৌনে এক কাপ পিঁয়াজের বেরেস্তা,
- আধা চা চামচ গরম মশলা গুঁড়ো।


প্রণালীঃ                                    

১) একটি প্যানে ডিপ ফ্রাই করার জন্য তেল গরম করে নিন।
এতে কাঁঠালের টুকরোগুলো দিয়ে ভালো করে ভেজে নিন। সোনালি হয়ে এলে নামিয়ে
কাগজে তেল ঝরিয়ে নিন।

২) ঘি গরম করে নিন বড় একটা নন-স্টিক প্যানে। এতে দিন জয়ত্রী, তেজপাতা, লবঙ্গ,
এলাচ এবং দারুচিনি। সব সাঁতলে নিন ভালো করে। এতে পিঁয়াজ দিয়ে দিন। যতক্ষণ
না পিঁয়াজ সোনালি হয়ে ওঠে ততক্ষণ ভেজে নিন।
এরপর আদা-রসুন বাটা এবং লঙ্কা  গুঁড়ো দিন।
মিশিয়ে সাঁতলে নিন ২ মিনিট।

৩) এবার এতে চাল এবং নুন দিয়ে দিন। আলতো হাতে মিশিয়ে নিন এবং মিনিটখানেক
এভাবে রান্না হতে দিন। এরপর ৩ কাপ জল  দিন।
এবার ঢেকে রান্না করুন যতক্ষণ না আধা সেদ্ধ হয়ে আসে।

৪) ভাজা কাঁঠাল দিয়ে দিন এতে।
আরও দিন কাজুবাদাম, ধনেপাতা কুচি, আদা কুচি, লেবুর রস, বেরেস্তা এ বং
গরম মশলা গুঁড়ো। আলতো হাতেমিশিয়ে নিন এবং ওপরে কিছু জল এর  ছিটা দিন।
ঢাকনা চাপা দিয়ে রান্না হতে দিন যতক্ষণ না চাল পুরোপুরি সেদ্ধ ও নরম হয়ে আসে।
এবার গরম গরম পরিবেশন করুন দারুণ
স্বাদের কাঁঠাল পোলাও।
=====================================
135>ঘরে তৈরি করুন ঘি

উপকরনঃ
দুধের সর- ৫ কেজি পরিমাণ,
ঠাণ্ডা জল - ২.৫ লিটার,

ঘি তৈরির জন্য যা লাগবেঃ
মাটির পাত্র বা মালশা- ১টি (সর ঘোট বার জন্য),
শিল-পাটা- (সর বাটার জন্য),
কাঠের চামচ বা খুন্তি- ১টি (সর ঘোট বার জন্য),

প্রনালিঃ-------

১. প্রথমে দুধের সর নিয়ে নিন আর দুধের সর বাটার জন্য একটি পরিষ্কার শিল-
পাটা নিন।
এরপরে দুধের সর অল্প পরিমাণে করে শিল-পাটাতে নিয়ে বাটতে থাকুন। বাটার সময় জল 
 দেওয়া যাবেনা। সরের পরিমাণ যেহেতু বেশি তাই একবারে সবটুকু একসাথে বাটতে যাবেন না। 
অল্প অল্প করে সর নিয়ে বেটে নিতে হবে।

২. এবার একটি মাটির পাত্র বা মালশা নিয়ে নিন। তাতে বাটা সর থেকে অল্প অল্প করে 
নিয়ে কাঠের চামচ বা খুন্তি দিয়ে ঘুটতে থাকুন। এই প্রক্রিয়াটি যত দ্রুত সম্ভব ততো দ্রুত 
করতে হবে।
ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করতে পারেন,তবে তা বাটা সরের মত অত ভালো হবেনা।

৩. ভাল করে ঘোটা হয়ে গেলে সর থেকে ক্রিম তৈরি হবে। এভাবে বাকি সর থেকেই ক্রিম 
তৈরি করে নিন।
৪. ক্রিম তৈরি হয়ে গেলে এর মধ্যে ঠাণ্ডা জল দিতে হবে। ক্রিমের পরিমাণ অনুযায়ী জল 
 দিতে হবে।
জল দিয়ে ঘোটার পরে ক্রিম থেকে সাদা দুধের মত জল বের হয়ে ক্রিম পরিষ্কার হয়ে 
ঘন লেই এর মত উপরে ভেসে উঠতে থাকবে। যখন ক্রিমের সবটুকু লেই পরিষ্কার হয়ে 
জলের উপরে উঠে আসবে তখন জল থেকে ক্রিম ছেকে তুলে নিন এবং জল ফেলে দিন।
একবারে করা সম্ভব না হলে কয়েকবারে করতে হবে।

৫. এবার সবটুকু ক্রিমের লেই একটি পাতলা মসলিন কাপড়ের মাঝখানে রেখে ভাল 
করে বেধে ঝুলিয়ে দিন।
এভাবে ঝুলিয়ে রাখলে ক্রিমের লেই থেকে সম্পূর্ণ জল বের হয়ে যাবে।
এভাবে কমপক্ষে এক থেকে দেড় ঘণ্টা রাখতে হবে।
৬. ক্রিমের লেই থেকে সম্পূর্ণ জল বের হয়ে গেলে একটি লোহার কড়াই উননে দিয়ে গরম 
করে নিন।
খেয়াল রাখবেন যেই পাত্রে ঘি তৈরি হবে তা যেন সম্পূর্ণরুপে পরিষ্কার থাকে।

৭. এবার গরম পাত্রে ক্রিমের লেই ঢেলে দিন। লেই দেয়ার পরে উনানের আঁচ কমিয়ে 
মধ্যম আঁচে রাখুন।
ক্রিম উনানে দেয়ার পরে অনবরত নাড়তে থাকুন। বেশ কিছুক্ষন নাড়ার পরে ক্রিম 
জ্বাল হয়ে তার মধ্যে থেকে তেল বের হতে থাকবে।
এই তেলটাই হল আপনারকাঙ্ক্ষিত ঘি।
তবে এখনও সম্পূর্ণরুপে ঘি তৈরি হইনি কিন্তু। সবটুকু ক্রিম যখন পুড়ে গিয়ে কালো 
হয়ে যাবে  সেই সাথে ঘি গাড় হয়ে সুন্দর সোনালি রং ধারন করবে ও তা থেকে সুন্দর 
সুগন্ধ ছড়াবে তখন বুঝতে হবে এবার আপনার ঘি তৈরি হয়ে গেছে।

৮. এবার একটি পরিষ্কার ও শুকনা পাত্রে ঘি ছেঁকে নিতে হবে। ছাকার সময় খেয়াল 
রাখবেন পোড়া অংশ যেন ঘিয়ের মাঝে চলে না যায়।

৯. পাত্রের ঘি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে বোতলে ভোরে ফেলুন এবং ফ্রিজারে করে সংরক্ষন করুন।
এভাবে সংরক্ষন করলে আপনার বানানো ঘি অনেকদিন পর্যন্ত ঠিক থাকবে।


* আপনার সর ঘোটানো ও ক্রিম জ্বাল দেয়ার উপরে নির্ভর করবে আপনি কতখানি ঘি 
তৈরি করতে পারবেন।
তবে ৫ কেজি দুধের সর থেকে ১ থেকে দেড় কেজি মত ঘি তৈরি করা সম্ভব।

সতর্কতাঃ

ঘি প্রস্তুত করার আগে খেয়াল রাখবেন সর শিল-পাটাতেই বাটতে হবে।
ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করতে পারেন,তবে তা বাটা সরের মত মোলায়েম হবেনা। 
সেই সাথে মাটির পাত্রই ব্যাবহার করবেন। স্টিল বা অন্যান্য তৈজসপত্র ব্যাবহার করলে
 ক্রিম নষ্ট যেতে পারে।
সেই সাথে জল ছেকে নিতে হবে ভাল করে যেন কড়াইতে দেয়ার সময় জল না থাকে 
ক্রিমের মধ্যে একটুও।

ঘি আমাদের দেশি রান্নায় সেই সাথে যেকোনো বাহারি খাবারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ 
একটি উপাদান।
ঘি এর মান ভাল হলে রান্নার স্বাদ এমনিতেই অনেক ভাল হয়ে যায়।
তবে এই ঘি তৈরির প্রক্রিয়াটি সহজ নয়।
ঘি তৈরির আগে খেয়াল রাখবেন এটা তৈরি করার জন্য অনেক সময় ও শক্তি আপনাকে
 দিতে হবে এর পিছনে।
কিন্তু সব কষ্ট শেষে যখন নিজের হাতে তৈরি ঘি এর স্বাদ গ্রহন করবেন তখন আপনার
সব কষ্ট সফল হয়ে যাবে।
============================================================
136>লাচ্ছা পরোটা

এর আরেক নাম কেরালা পরোটা।
কারন এই লাচ্ছা পরোটা ভারতের কেরালা অঞ্চলের খাবার।

উপকরণঃ-------

ময়দা ২ কাপ,
ডিম ১টি,
নুন  ১ চিমটি,
চিনি ১ চা-চামচ,
তরল দুধ পরিমাণমতো,
ঘি অথবা তেল ভাজার জন্য।

প্রণালিঃ

-ওপরের সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে , মাখিয়ে মন্ড  তৈরি করে এক ঘণ্টা ভেজা 
কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
এক ঘন্টা পর
-মন্ড  থেকে লেচি কেটে রুটি বেলতে হবে। তারপর রুটির ওপর ঘি/ তেল দিয়ে একটু 
শুকনো ময়দা ছড়িয়ে দিতে হবে।
-এবার কাগজের পাখার মতো করে ভাঁজ করতে হবে। তারপর একটু টেনে টেনে পেঁচিয়ে 
গোল করে নিন।
-সামান্য তেল মাখিয়ে বেলে নিন। ঘি বা তেল দিয়ে ভেজে নিন সাধারণ পরোটার মত।
-হাত দিয়ে চাপ দিয়ে ভাঁজগুলো আলগা করে নিন।
-ব্যাস হয়ে গেল লাচ্ছা পরোটা।
=============================
137>সুজির  কচুরি।

উপকরণঃ
মন্ড  তৈরির জন্য লাগবে-
১/২ কাপ সুজি,
১ কাপ জল ,
১ টেবিলচামচ জিরা,
১ টেবিল চামচ তেল,

আলুর পুরের জন্য লাগবেঃ
১টা আলু সিদ্ধ,
২ টা কাঁচালঙ্কা ,
নুন  স্বাদমত,
চাট মশলা,

প্রণালীঃ

১। প্রথমে একটি পাত্রে জলে তে সুজি, জিরা, লবণ(সামান্য পরিমাণে)তেল
     দিয়ে সিদ্ধ করতে দিন। সুজি ঘন হয়ে আসলে ওভেন  থেকে নামিয়ে ফেলুন।

২। অল্প কিছুক্ষণের জন্য সুজি ঠান্ডা হতে দিন। লক্ষ্য রাখবেন খুব বেশি ঠান্ডা যেন
      না হয়। বেশি ঠান্ডা হয়ে গেলে সুজি গোল হবে না।

৩। আরেকটি বাটিতে সিদ্ধ আলু, কাঁচালঙ্কা , চ্যাট মশলা, নুন  ভাল করে মিশিয়ে পুর
      তৈরি করে নিন।

৪। এবার হাতে একটু তেল লাগিয়ে নিন। তারপর সুজির মন্ড হাতে নিয়ে কিছুটা চ্যাপ্টা 
     করে তাতে আলুর পুরটা দিয়ে দিন।

৫। সুজির লেচি বানিয়ে তাতে  আলুর পুরটা ভাল করে ভরে  ঢেকে দিন। এমনভাবে ঢাকুন
      যাতে পুর দেখা না যায়। তারপরে বেলে নিয়ে কচুরির বানিয়ে নিন।

৬। তেল গরম হয়ে আসলে এতে একে একে সুজির কচুরিগুলো ভেজে নিন। বাদামি রং হয়ে 
      আসলে নামিয়ে ফেলুন।

      ব্যস তৈরি হয়ে গেল মজাদার সুজির কচুরি। 
       সস দিয়ে পরিবেশন করুন।
=========================================


138>রাইস চিকেন রোল।

টিফিনের জন্য চমৎকার পদ।

উপকরণঃ
 আটা বা ময়দার লেচি বানিয়ে  রুটির মত বেলে নিতে হবে ৫ ,৬ টি ।
 মুরগির বুকের মাংস (সিদ্ধ করা) ১ কেজি।
 চিকেন স্টক ১ কাপ।
পোলাওয়ের চাল আধা কাপ।
চিলি অথবা টমেটো সস ১ কাপ।
পেঁয়াজকুচি আধা কাপ।
রেড বিন্স (সিমের দানা) ১ কাপ।
অলিভ অয়েল ভাজার জন্যে যতটুকু লাগবে।

ফিলিংয়েল জন্য আরও লাগবেঃ

পনির, ক্যাপ্সিকাম, ব্ল্যাক অলিভ, ফ্রেশ কর্ন। এগুলো সব বাজারে পাবেন।

টপিংয়ের জন্যঃ

সালসা মসলা, ক্রিম অথবা পনির।

পদ্ধতিঃ

রান্না করা চিকেন ব্রেস্ট মাংস কেটে টুকরো টুকরো রাখুন।
হাড়িতে  চাল, চিকেন স্টক, সস ও পেঁয়াজকুচি মিশিয়ে উননে  বসান।
ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে ২০ মিনিট রান্না করুন অথবা চাল সিদ্ধ হওয়া
পর্যন্ত রান্না করুন।
চাল সিদ্ধ হয়ে গেলে এতে মাংস মিশিয়ে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে নিন।
এবার একটি তৈরী করা রুটি র  উপরে চামচ দিয়ে সমান করে
চিকেনের মিশ্রণটা দিন।
চাইলে এই মিশ্রণের উপরে আরও দিতে পারেন রেড অথবা ব্ল্যাক বিন্স, চিজ,
অলিভ ইত্যাদি।
এবার রুটি স্প্রিং রোলের মতো করে গোল করে নিন। এভাবে সবগুলো রোল বানিয়ে  নিন।

একটি ননস্টিক প্যানে তেল গরম করে, রোল গুলো  দুইপাশ সোনালি করে ভেজে নিন।

 (মাইক্রো ওভেনেও ভাজা যেতে পারে।)
গরম গরম পরিবেশন করুন চিলি সস , টমেটো সস বা ক্রিম দিয়ে।
==============================
139>ভেলপুরি নিউ  স্টাইলে।

পুরির জন্য উপকরনঃ
আটা সোয়া ১ কাপ।
সুজি সিকি কাপের থেকে সামান্য কম।
তেল ৬ চা-চামচ ।
বেইকিং পাউডার আধা চা-চামচ ।
কালোজিরা এক চিমটি (১ চিমটির বেশি না )।
 নুন  সামান্য।
 জল  পরিমাণ মতো।

পদ্ধতিঃ

সব উপকরণ মিশিয়ে নরম মন্ড তৈরি করুন। রুটির আটার মতো । নরম করে না
মাখালে সুজি সহজে গলবে না।
মন্ড  পলিথিনে মুড়ে ঢেকে রেখে দিন এক, দুই ঘণ্টা। তারপর বের করে খুব ভালো করে
ময়ান দিন। পরোটার মতো মোটা ও ছোট ছোট রুটি বেলে বা বড় রুটি বেলে কাটার দিয়ে
কেটে নিন।
সব বেলা শেষ হলে ভাজবেন।
তিন থেকে চার মিনিট পরে ভাজলে ভেলপুরি অনেক সুন্দর মচমচে হয়। ডুবো তেলে
দেওয়ার পরে হালকা চেপে চেপে দিন। তাহলে সহজেই ফুলে উঠবে।

মাঝারি আঁচে লালাচে বাদামি রং করে ভাজুন। ভেলপুরি একটু বেশি ভাজতে হবে।
অল্প ভাজলে মচমচে কম হবে এবং সহজেই নরম হয়ে যাবে।
ভাজা হয়ে গেলে ঠাণ্ডা করে এয়ার টাইট বক্সে ভরে রাখুন।

টিপসঃ

ভেলপুরি ফুচকার থেকে সাইজে দ্বিগুণ এবং মোটা হবে। ভাজার পরে এক পিঠ একটু বেশি
মোটা থাকে এবং ওপর পিঠ সামান্য পাতলা থাকে।
ফুচকার মতো পাতলা হয় না।

পুরের জন্য উপকরণঃ

মটরের ডাল ১ কাপ।
আলু ১টি মাঝারি।
 জিরা, ধনিয়া,পেঁয়াজ, লঙ্কা , আদা, রসুনবাটা বা গুঁড়া- পরিমাণ মতো। এলাচ, দারুচিনি,
তেজপাতা- অল্প পরিমাণে বাটা বা আস্ত। পেয়াজকুচি, ধনেপাতা ও কাঁচালঙ্কা , অল্প পরিমাণে।

চাট মসলা তৈরির পদ্ধতিঃ

জিরা, ধনিয়া, শুকনো লঙ্কা , তেল ছাড়া প্যানে ঢেলে নিয়ে গুঁড়া করে নিন।

পুর তৈরির পদ্ধতিঃ

ভেজানো ডাল সব মসলা দিয়ে কষিয়ে সিদ্ধ করে নিন। সঙ্গে আলুও সিদ্ধ করুন। এবার এই সিদ্ধ ডাল ও আলু চাট মসলা দিয়ে ভালো করে মেশান। সঙ্গে পেঁয়াজকুচি, ধনেপাতা ও কাঁচালঙ্কা -কুচি মেশান।


টক তৈরির পদ্ধতিঃ

তেতুলের কাঁথ। বিট নুন । চিনি সামান্য। নুন  ও টমেটো সস সামাণ্য। চাট মসলা। সব ভালো করে মিশিয়ে নিন।

পরিবেশনঃ

পুরির উপরের অংশ ভেঙে পুর দিয়ে উপরে শসা, টমেটো, পেঁয়াজকুচি ও চাট মসলা ছিটিয়ে টক
দিয়ে পরিবেশন করুন।
====================================

140>ভেজিটেবল চিকেন সুপ

উপকরণ:

মুরগির মাংস (একদম ছোট করে কাটা) ৪ টেবিল-চামচ।
গাজরকুচি ২ টেবিল-চামচ।
টমেটো টুকরা ১ টেবিল-চামচ।
চিকেন স্টক ২ কাপ।
নুন  ১ চিমটি।
গোলমরিচ-গুঁড়া আধা চা-চামচ।
কাঁচালঙ্কা -কুচি ১ চা-চামচ।
কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল-চামচ।
মাখন ১ চা-চামচ ।

পদ্ধতি:

প্যানে মাখন ও আধা চামচ আদাকুচি দিয়ে এক মিনিট নেড়ে, চিকেন স্টক দিন।
এবার ডিম ভেঙে মিশিয়ে বাকি সব উপকরণগুলো দিয়ে দিন।

কর্নফ্লাওয়ার আলাদা করে আগে জলে  গুলে তারপর সুপের সঙ্গে মিশিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন।
সুপ ঘন হয়ে আসলে নামিয়ে পরিবেশন করুন ।ok

 =====================================
141>মাখন ও ঘি.

মাত্র ১০ মিনিটে মাখন তৈরি।

উপকরণঃ

 বাজারে র ক্রিম।
ক্রিম না পান, তাহলে দুধ জ্বাল দেয়ার সময় ওপরে যে সর জমে, সেটাকে প্রতিদিন
তুলে তুলে জমিয়া রাখুন ফ্রিজে। বেশ কিছু পরিমাণ সর জমে গেলে সেটা দিয়ে একই ভাবে মাখন
তৈরি করতে পারবেন)
লবণ- ১ চিমটি।


প্রণালিঃ

-একটি ফুড প্রসেসর বা হ্যান্ড বিটার নিন। ফুড প্রসেসর হলে ভালো। এর মাঝে ক্রিম ও লবণ
দিয়ে বিট করতে শুরু করুন। (লবণ না দিলেও চলবে। লবণের বদলে নিজের পছন্দের যে
কোন ফ্লেভার যেমন মিনট, ধনিয়া, যোগ করতে পারেন)
-বিট হতে হতে দেখবেন ক্রিম ঘন হতে শুরু করে করেছে। ঘন হতে হতে ক্রমশ জমাট বাঁধতে
শুরু করবে।
-যখন দেখবেন জমাট প্রায় বাঁধে বাঁধে অবস্থা, এমন সময়ে ২/৩ চামচ বরফ  জল বা ঠান্ডা জল মেশান । এতে সহজে জমাট বাঁধবে।
-আবার বিট করুন। এক সময়ে দেখবেন আবার বিট করতে পারবেন না। দেখতে পাবেন যে মাখন জমাট বেঁধে গেছে আর এক রকমের সাদা জল  বের হয়েছে। এটাই বাটারমিল্ক।
-মাখন হাত দিয়ে সংগ্রহ করে বল বানিয়ে রাখুন।
আর এই বাটার মিল্ক আপনি ব্যবহার করতে পারবেন নানান রকমের রান্নায়।
-------------------------
(( ফুড প্রসেসর আর ব্লেন্ডারের মধ্যে মূলত পার্থক্য কি? কোনটি বেশি প্রয়োজন?
দুইটি মেশিন আসলে একে অপরের কাউন্টার হিসেবে কাজ করে। তবে ব্লেন্ডার এবং ফুড প্রসেসরের মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে, ব্লেন্ডার সাধারনত ব্লেন্ড বা মিক্স করার ক্ষেত্রে কাজ করে যা, সফট এবং লিকুইড খাবার ব্লেন্ড বা মিক্স করতে সক্ষম। অন্যদিকে ফুড প্রসেসর শক্ত কিংবা নরম খাদ্যদ্রব্য কে চপ, শ্রেড, স্লাইস, গ্রেট এবং মিক্স করার কাজে ব্যবহার করা হয়। আমার মতে রান্নাঘরে এই দুইটি মেশিনই প্রয়োজন। ফুড প্রসেসর না থাকলেও একটা ব্লেন্ডার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিষ রান্না-বান্নার প্রক্রিয়ার জন্য।))                   ok
==============================================
142>ম্যাঙ্গো পান্না--

উপকরণঃ

১ কাপ আমের রস।
 ২ প্যাকেট জেলাটিন পাউডার।
২ কাপ আমের টুকরা, ভালোভাবে ব্লেন্ড করা।
 ১ কাপ দুধ।
 ১ কাপ গ্রেড  করা  চিনি।
এক চিমটি নুন ।
১ টেবিল-চামচ ভ্যানিলা এসেন্স।
২ কাপ ক্রিম।

পদ্ধতিঃ

একটি পাত্রে আমের রস এবং জেলাটিন দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে এক মিনিট মাইক্রোওয়েভ-
ওভেনে গরম করে নিতে হবে। এরপর চামচ দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে।
আমের টুকরার মিশ্রণের সঙ্গে জেলাটিন ভালো করে মিশিয়ে,
পিউরির মিশ্রণটিসহ গ্লাসে ঢেলে নিতে হবে ইচ্ছা মতো।
এটি ফ্রিজে ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য কমপক্ষে দুই ঘণ্টা রাখতে হবে।

একটি প্যানে দুধ এবং জেলাটিন দিয়ে ১০ মিনিট জ্বাল দিন।
তারপরএতে চিনি এবং লবণ দিতে হবে।
নামানোর আগে ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে ক্রিমের সঙ্গে দুধের মিশ্রণটি
ভালো করে মিশিয়ে নিন।

এরপর ফ্রিজ থেকে আমের গ্লাসগুলো বের করে এতে ক্রিমের মিশ্রণটি
ঢেলে ফ্রিজে চার ঘণ্টা রেখে পরিবেশন করুন।
=======================================
143>কুলফির স্বাদে আমের  লাচ্ছি (খুব সহজ)

 উপকরণঃ

আমকুচি আধা কাপ।
টকদই ১ কাপ।
কুলফি আইসক্রিম (বাজারে পাবেন) ২ স্কুপ।
পুদিনাপাতা ৫,৬টি।
বড় লেবুর রস ১ টেবিল-চামচ।
গোলমরিচের-গুঁড়ো  স্বাদ মতো।
চিনি স্বাদ মতো।
জল  ও বরফ পরিমাণ মতো।

পদ্ধতিঃ

প্রথমে আম কুচি, পুদিনাপাতা ও অল্প একটু টকদই দিয়ে মশ্রিণ ভাল ভাবে ব্লেন্ড করে নিন।
এবার বাকি সব উপকরণ ( লেবুর রস,  গোলমরিচের-গুঁড়ো, চিনি,কুলফি আইসক্রিম )ও
দরকার হলে জল  দিয়েআবার ব্লেন্ড করুন।

পরিবেশন গ্লাসে ঢেলে বরফ, লেবুর টুকরো  ও পুদিনাপাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন
দারুণ মজার   আমের  লাচ্ছি

 মনে রাখবেনঃ

লাচ্ছি পরিবেশনের ঠিক মিনিট পাঁচেক আগে তৈরি করবেন।
বেশি আগে করলে এর স্বাদ ও রং দুটোই নষ্ট হয়ে যাবে।
======================================

No comments:

Post a Comment